কখনো কোনো ডকুমেন্ট বা কোনো বই বা বই এর অংশ স্ক্যান করে পিডিএফ বানায় নাই এমন মানুষ মনে হয় না মেডিকেলে আছে। তবে ভালোভাবে স্ক্যান খুব কম মানুষই করেন, হয় পেজের কালার ঠিক থাকেনা, নাহয় পেজের ওরিয়েন্টেশন উলটা পালটা, একেক পেজের একেকরকম, কেউ আবার দুইটা পেইজ একসাথে স্ক্যান করেন। তো কিভাবে স্ক্যান করলে প্রফেশনাল টাইপ পিডিএফ পাবেন এটা নিয়ে এই পোস্ট।
এখানে মেইনলি কথা বলবো Phone দিয়ে স্ক্যানের ব্যাপারে। প্রফেশনার ক্যামেরা বা স্ক্যানার নাই ৯৯.৯% মানুষেরই এখানে।
কোন এপ ইউস করবেন?
- 1.Camscanner
- 2.vFlat
- 3.Google Document Scanner
যদি ফোন low-tier এর হয়, তাহলে সাজেস্ট করবো Camscanner ইউস করার। আর যদি একটু ভালো ফোন হয় তাহলে vFlat। vFlat স্ক্যান করার সাথে সাথে প্রসেস করে এজন্য low-tier ফোনগুলিতে স্লো মনে হতে পারে, আর Camscanner এ প্রসেস করে স্ক্যান করা শেষ হলে, তাই তুলনামূলক ফাস্ট।
আরেকটা জিনিস, vFlat এ OCR করা যায়, আবার রিসেন্ট আপডেটে Straighten নামে একটা অপশন এসছে, আঁকাবাঁকা ভাবে যদি স্ক্যান করা হয়, অটোমেটিক্যালি এটা straight হয়ে যাবে টেক্সট এলাইনমেন্ট অনুযায়ী। vFlat ইউস করলে Remove Finger অপশনটি ইউস করবেন না, অনেক সময় টেক্সট বা ফিগার রিমুভ হয়ে যেতে পারে। (Mod Version টা দিয়ে ফ্রিতেই করা যায় - লিঙ্ক)
আরো কিছু কথা আছে, স্ক্যানিং এর কিছু ব্যাপার আছে যেগুলা ফলো না করলে দৃষ্টিকটু লাগে অনেকটা বা Qualityful pdf হয় না, পড়তেও ভালো লাগেনা। যেমন -
- 1.প্রথমত ঢালাওভাবে Magic color বা Shadow Removal না দিয়ে পেইজের কালার এর সাথে কোন ফিল্টার ভালো স্ক্যান দেখাচ্ছে এটা চেক করে নিলে সুবিধা হয়, নাহলে অনেক বই অতিরিক্ত Whiteness এর জন্য বই এর মেইন টেক্সটই দেখা যায় না। যদি ভালো ফিল্টার না পাওয়া যায় তাহলে Raw টাই ইউস করা বেটার।
- 2.এরপর আসে লাইটিং এর ব্যাপারটা, বিশেষ করে যদি গ্লসি পেপার হয়, তাহলে এমন ভাবে ফোনের পজিশন বা লাইটিং ধরতে হবে যেন রিফ্লেকশন না আসে।
- 3.Always Avoid two pages scan at once. এটা দ্রুত হলেও খুবই দৃষ্টিকটু লাগে, অনেকে ভাবতে পারেন প্যাড বা ট্যাবে পড়তে সুবিধা হয়, কিন্তু বাকি সব যায়গায় খুবই বাজে হয়। এ ধরনের পিডিএফ নিয়ে কাজ করাও ঝামেলা (যেমন AI এ আপ্লোড দেয়ার ক্ষেত্রে বা ল্যাপটপে পড়তে গেলেও)
স্ক্যান করতে গেলে আরেকটা সমস্যা ফ্রিকুয়েন্টলি আমরা ফেইস করি, যে ক্যামেরা নড়ে যায়, যার কারণে পেইজ ব্লারি হয়ে যায়। তাহলে স্ট্যাবিলিটির জন্য কি করবেন? যদি রেগুলার স্ক্যান করা লাগে ফোন দিয়ে, সেক্ষেত্রে একটা Multi-Axis-arm বা Overhead ফোন স্ট্যান্ড কিনে নেয়া বেটার বা টেবিলে উচু কোথাও ফোন রেখে বই উল্টায় যাবেন অটোমেটিক ক্যাপচার মোডে রেখে।
আরেকটা জিনিস, অনেক বইয়ের লেখা শুরু হয় মার্জিনের অনেক কাছে থেকে, যার কারণে সহজে স্ক্যান করা যায় না, বা সাইডের পেইজ চলে আসে এই পেজের ভিতর। এটা সলভ করার উপায় হচ্ছে যে পেইজ স্ক্যান করা হচ্ছে তার সাইডের টা সাদা একটা পেপার দিয়ে ঢেকে রাখা।
আমি কিভাবে স্ক্যান করি?
আমিও ফোন দিয়ে স্ক্যান করি, Usually vFlat দিয়ে, কেননা এখানে OCR করা যায় (Mod Version টা দিয়ে ফ্রিতেই করা যায় - লিঙ্ক)। ওভারহেড স্ট্যান্ড ইউস করি আমি স্ট্যাবিলিটির জন্য। ফার্স্টে জোড় পেইজ গুলো স্ক্যান করি, এরপর বিজোড় পেইজ গুলো। দুইটা সেপারেট পিডিএফ তারপর অল্টারনেট করে মার্জ করে দেই। এভাবে মার্জ করার জন্য আগে pdftk ইউস করলেও এখন GTC PDF Tools এ 1-Odd 1-Even Merge নামের একটা টুল আছে ওটা দিয়ে মার্জ করি। এভাবে আলাদা ভাবে স্ক্যান করলে মোটামুটি ৩০ মিনিটের ভিতর ৩০০-৫০০ পেইজও স্ক্যান করা যায় যদি একটানা করা হয়।
ছোট PDf গুলো OCR এর জন্য GTC PDF Tools এর OCR টা দেখতে পারেন, আর বড় পিডিএফ OCR করতে চাইলে ওখানেই গাইড করা আছে কোন টুলস দিয়ে করবেন - GTC PDF Tools.
সবার শেষের আরেকটা স্টেপ আছে, যেটা স্কিপ করে যায় অনেকেই, ক্রস চেক আর কোনো পেইজ ডুপ্লিকেট হলো নাকি এটা চেইক করা। অনেকে হয়তো এটা জানো, তারপরেও এটা সহজে করার একটা ট্রিক শিখায় দেই, প্রিন্টেড বই এর ফার্স্টে ১ নাম্বার পেইজ স্ক্যানের কোন পেইজে আছে দেখতে হবে, এরপর প্রতি ১০০ পেইজ পর পর চেইক করতে হবে ঠিক আছে নাকি। যদি গড়মিল থাকে তাহলে ঐ রেঞ্জে ৫০ পেইজ ব্যবধানে চেইক করতে হবে, এরপর ৩০, এরপর ১০, এভাবে সহজেই বের করা যায় এক্সাক্টলি কোন পেইজটা মিসিং।
ধরো আমার স্ক্যানেরর ১৬ নাম্বার পেইজ হচ্ছে প্রিন্টেড বই এর ১ নাম্বার পেইজ। তো এর মানে হচ্ছে ১১৫ নাম্বার স্ক্যানের আসল বা প্রিন্টেড পেইজ নাম্বার হবে ১০০, এরপর ২১৫ এর টা ২০০ বা ২৬৫ নাম্বার স্ক্যানের প্রিন্টেড পেইজ নাম্বার হবে ২৫০।
Daraz বা যেকোনো অনলাইন শপে খোজ করলেই পাবা এটা, আমি এটা রিলস দেখা থেকে শুরু করে বই স্ক্যান, পড়াশোনার সময় ফোন কাছে রাখা, সব কাজেই ইউস করি :')



