মেডিকেলের পড়াশোনায় যে লিগ্যাল প্রসেডিউর, কেস-কোর্ট-আদালত, দেওয়ানী-ফৌজদারী এসব আছে, ফরেনসিক মেডিসিন পড়ার আগে হয়তো কেউ ধারণাই করতে পারে না। তবে লিগ্যাল প্রসিডিউর গুলো কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং, আমরা নিউজ দেখার সময় বিচার ব্যবস্থার অনেক টার্মিনোলজি দেখতে পাই যা অনেকেই বুঝিনা। আবার বাস্তব জীবনেও যে এসবের সম্মুখীন হবোনা, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই পাশের জন্য তো জানা লাগবেই, তাছাড়া বাস্তব জীবনেও কাজে আসতে পারে এই ছোট ছোট বিষয়গুলো। আজকের আলোচনার বিষয় বাংলাদেশের কোর্টের hierarchy সিস্টেম।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা পরিচালিত রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের একটা। আর সর্বোচ্চ আদালত হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। অন্যান্য অনেক দেশে সুপ্রিম কোর্ট আর হাই কোর্ট আলাদা আলাদা থাকলেও বাংলাদেশে হাই কোর্টকে সুপ্রিম কোর্ট এরই একটা বিভাগ হিসেবে রাখা হয়েছে। তাই বলা যায় সুপ্রিম কোর্টের দুইটা বিভাগ, আপিল বিভাগ আর হাই কোর্ট বিভাগ। আপিল বিভাগটাই সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশে, এখান থেকে কোনো রায় আসলে এটাই সর্বশেষ রায়, এর উপর আপিল করার মতো আর আদালত নেই। তো সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ, জেলা পর্যায়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত মহানগর দায়রা জজ আদালত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বিভিন্ন ট্রাইবুনালের সমন্বয়ে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ গঠিত।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পরেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অবস্থান। তবে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুধু মাত্র ফৌজদারী মামলা(Criminal Case) গুলোর বিচার করে থাকেন। ২০০৭ সালের পরে আবার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট দুইভাগে ভাগ হয়ে গেছে, জুডিসিয়ারি আর এক্সেকিউটিভ। এক্সেকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা আসেন Govt Service থেকে, তাদের শুধু preventive power, অর্থাৎ কোনো একটা অন্যায় হবে বা হচ্ছে, তখন তিনি গিয়ে থামাতে পারেন বা বিচার করতে পারেন। তবে কোনো অন্যায় কাজ হয়ে গেলে সেটা চলে যায় জুডিসিয়ারি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। তিনিই কেবল মাত্র এটার বিচার করতে পারবেন। তো আমাদের ফরেন্সিক মেডিসিনের সাথে সম্পর্কিত হচ্ছে জুডিসিয়ারি, যেহেতু আমরা এভিডেন্স নিয়ে কাজ করি। তাই অনেক শিক্ষক জুডিশিয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট না বলা পর্যন্ত উত্তর এক্সেপ্ট করেন না।
এছাড়া বাংলাদেশের জেলা পর্যায়ে শুধু মাত্র জেলা আদালত বা শুধু মাত্র দায়রা আদালত নেই আলাদাভাবে। দুইটায় মিলে জেলা ও দায়রা জজ আদালত আছে (District and session judge court). তাই মৃত্যু দন্ড কে দিতে পারেন এটার উত্তরে District and session judge Court ও Additional District and session judge court বলতে হয়, যদিও মৃত্যু দন্ডটা District and session judge court এর session judge ই দিয়ে থাকেন।
তো কোর্টের hierarchy আমরা অনেকেই বুঝতে পারিনা বা বুঝতে সময় লাগে অনেক বেশি। কোর্টের hierarchy আর এই ধরনের বিশেষ পয়েন্ট গুলো খুব সহজেই ভিজুয়ালাইজ করার জন্য আমাদের ক্ষুদ্র চেষ্টা এই pdf টিঃ
Download


